আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য / IMPORT EXPORT TRADE সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা :

আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য বা import Export trade সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: যে ব্যবসায় সরকারি বা বেসরকারি যে কোন পক্ষের মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন পণ্য বা সেবা বিনিময়ের দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
উদ্দেশ্য:
১. বৈদেশিক বিক্রয় বাড়ানো
২. সম্পদের আহরণ
৩. কাঁচামাল ও বিক্রয় এর উৎসের বিকেন্দ্রীকরণ

আমদানি : কোন দেশ বা দেশের ব্যবসায়ী বিদেশ হতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য সামগ্রী দেশের অভ্যন্তরে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয় করে আনলে তবে তাকে বলা হয় আমদানি
আমদানি প্রণালী বা পদ্ধতি (ধাপ ১১টি)
১. আমদানি অনুমতিপত্র সংগ্রহ
২. তথ্যাদি অনুসন্ধান
৩. ফরমায়েশ প্রদান
৪. বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ
৫. প্রত্যয়পত্র খোলা
৬. বিনিময় হার নির্ধারণ
৭. পণ্য প্রেরণের সংবাদ প্রাপ্তি
৮. বিল প্রাপ্তি, বিল পরিশোধ ও দলিল পত্রাদি সংগ্রহ
৯. শুল্ক বিষয়ক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
১০. পণ্য খালাস
১১. লেনদেনের পরিসমাপ্তি


রপ্তানি: রপ্তানি হল এক দেশের উদ্বৃত্ত পণ্য ও সেবা সামগ্রী অন্য দেশে বিক্রয় করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার প্রক্রিয়া।
রপ্তানি প্রণালী বা পদ্ধতি (পদক্ষেপ ১৪টি)
১. ফরমায়েশ প্রাপ্তি
২. ফরমায়েশ গ্রহণ
৩. প্রত্যয়পত্র খোলার নির্দেশ
৪. বিনিময় হার নির্ধারণ
৫. সরকারের অনুমতিপত্র সংগ্রহ
৬. পণ্য সংগ্রহ
৭. জাহাজ ভাড়ার চুক্তি সম্পাদন
৮. পণ্যের বীমাকরণ
৯. শুল্ক সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা
১০. জাহাজে মালো বোঝাই
১১. পণ্য প্রেরণের সংবাদ প্রেরণ
১২. দলিল পত্র তৈরি ও প্রেরণ
১৩. মূল্য প্রাপ্তি
১৪. লেনদেনের পরিসমাপ্তি

পুনঃরপ্তানি : কোন দেশ বা এর কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য প্রথমে আমদানি করে তা আবার তৃতীয় অন্য কোন দেশে রপ্তানি করাকে পুনঃরপ্তানি ব্যবসায় (Re-Export) বলে।
বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত দলিল পত্রাদি :
(I) জাহাজী দলিলপত্র: ৬টি
১. বহনপত্র বা চালানি রশিদ (Bill of Lading)
# জাহাজ কর্তৃপক্ষ পণ্য বোঝাই এবং ভাড়া ‍চুক্তি স্বীকার করে রপ্তানিকারককে যে রশিদ প্রদান করে তাই বহনপত্র বা চালানি রশিদ।
# আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মালিকানার দলিল- বহনপত্র বা চালানি রশিদ
# বহনপত্র তৈরি করা হয়- ৩ প্রস্থে
# বহনপত্র দেওয়া হয়- কাঁচা রশিদের পরিবর্তে
# বহনপত্র প্রথমে প্রেরণ করা হয়- রপ্তানিকারকের নিকট
২. বীমাপত্র (Insurance policy)
# রপ্তানিকারক পণ্য জাহাজে বোঝাই করার আগে বীমা কোম্পানির সাথে জাহাজে প্রেরিত পণ্যের নিরাপত্তার জন্য একটি নৌ-বীমা চুক্তি করে, যাকে বীমাপত্র বলে।
# বীমাপত্র তৈরি করে- বীমাকারী/বীমা কোম্পানি (রপ্তানিকারকের আদেশে)
# বীমাপ্রত তৈরি করা হয়- প্রেরিত পণ্যের নিরাপত্তার জন্য
৩. বিনিময় বিল (Bill of Exchange)
# বিনিময় বিল তৈরি করে- রপ্তানিকারক
# বিনিময় বিল এক প্রকার- স্বল্পমেয়াদী ঋণপত্র
# বিনিময় বিলের মাধ্যমে- বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেনের টাকা পরিশোধ করা হয়
৪. চালান (Invoice)
# চালান পত্রে- পণ্যের বিবরণ, দর, পরিমাণ, পরিবহন খরচ, প্যাকিং খরচ, বীমা প্রিমিয়ামসহ ইত্যাদির উল্লেখ থাকে
# চালান তৈরি করা হয়- ৩ কপি
# চালান তৈরি করে- রপ্তানিকারক
৫. বাণিজ্য দূতের প্রত্যায়িত চালান (Consular Invoice):
# রপ্তানিকারক তিন কপি পণ্যের চালান তৈরি করে তার দেশে নিযুক্ত আমদানিকারকদের দেশের বাণিজ্যিক দূতের নিকট পেশ করে
# রপ্তানিকারকের দেশে নিযুক্ত আমদানিকারকের দেশের বাণিজ্যদূত কর্তৃক চালানপত্র পরীক্ষিত হতে হয়
৬. প্রভবলেখ (Certificate of Origin):
# পণ্যের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কিত ঘোষণাকে বলা হয় প্রভবলেখ
# প্রভবলেখ আমদানিকারকের নিজ দেশের শুল্ক থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে
# প্রভবলেখ তৈরি করে- রপ্তানিকারক
# প্রভবলেখ সত্যায়িত হতে হয়- স্থানীয় বণিক সংঘ দ্বারা
(ii) অজাহাজী দলিলপত্র:
১. নমুনা চালান (Pro-Forma Invoice):
# ফরমায়েশ পাওয়ার পর রপ্তানিকারক চালানের মতো পণ্য সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়াদির উল্লেখ করে যে প্রাথমিক বিবরণী পাঠায় তাই নমুনা চালান
# নমুনা চালানে মূল্য নিরূপণ পদ্ধতি বা মূল্য পরিশোধ পদ্ধতির উল্লেখ থাকে
২. জাহাজ ভাড়া চুক্তি/নৌ ভাটক পত্র (Charter Party):
কোন নির্দিষ্ট সময় বা যাত্রার জন্য রপ্তানিকারক এবং জাহাজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে জাহাজ ভাড়ার (সম্পূর্ণ বা আংশিক) যে চুক্তি হয় তাকে বলা হয় জাহাজ ভাড়া চুক্তি/নৌ ভাটক পত্র
জাহাজ ভাড়া চুক্তি হতে পারে- ৩ ধরনের:
1. নির্দিষ্ট সময়ের জন্য: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাহাজ ভাড়া করা হলে তাকে বলে- Time Charter
2. নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য : নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য জাহাজ ভাড়া করা হলে তাকে বলে- Voyage Charter
3. নির্দিষ্ট সময় ও যাত্রার জন্য

৩. প্রত্যয়পত্র (Letter of Credit / LC)
# ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে এবং রপ্তানিকারকের অনুকূলে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে যে পত্রের মাধ্যমে তাকে বলা হয়- প্রত্যয়পত্র
# প্রত্যয়পত্রের মাধ্যমে ব্যাংক আমদানিকারকের দেনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাই এটাকে ব্যাংকের ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
# পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়ায় প্রত্যয়পত্র খোলা হয়- ৩ প্রস্থে
প্রত্যয়পত্রের মূল পক্ষ- ৩টি। যথা :
i. আমদানিকারক
ii. আদিষ্ট
iii. রপ্তানিকারক
৪. ফরমায়েশ পত্র (Indent)
# যে পত্রের মাধ্যমে আমদানিকারক রপ্তানিকারককে পণ্য রপ্তানি করতে অনুরোধ করে তাকে বলা হয়- ফরমায়েশ পত্র
# এতে আমদানিকৃত পণ্যের নাম, পরিমাণ, ট্রেডমার্ক, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি, প্রেরণের সম্ভাব্য সময়, বীমা, ব্যাংকিং এবং পণ্য প্রেরণ ইত্যাদি উল্লেখ থাকে।
# শুধু পণ্যের নাম, পরিমাণ উল্লেখ থাকে- মুক্ত ফরমায়েশ পত্রে
৫. কাঁচা রশিদ (Mates Receipt):
রপ্তানিকৃত পণ্য জাহাজ বোঝাই করে জাহাজের অধ্যক্ষ যে রশিদ প্রদান করে তাকে বলা হয়- কাঁচা রশিদ

৬. ডক রশিদ (Dock Receipt):
ডক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রপ্তানিকারক জাহাজ পণ্য প্রেরণ করলে ডক কর্তৃপক্ষ পণ্যের যাবতীয় বিবরণ লিখে যে রশিদ প্রদান করে তাকে বলা হয়- ডক রশিদ
৭. ডক পরওয়ানা (Dock Warrent):
# ডকের গুদামে রক্ষিত আমদানিকৃত পণ্যের উপর আমদানিকারকের মালিকানা স্বত্বের স্বীকৃতি দিয়ে কর্তৃপক্ষ যে সনদ প্রদান করে তাকে বলা হয়- ডক পরওয়ানা
# ডক ওয়ারেন্ট তৈরি করেন- ডক কর্তৃপক্ষ
৮. ক্ষতিপূরণ পত্র:
# জাহাজ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে আমদানিকারক যে নিশ্চয়তা পত্র প্রদান করে তাকে বলা হয়- ক্ষতিপূরণ পত্র
# ক্ষতিপূরণ পত্র স্বাক্ষরিত হয়- ব্যাংক কর্তৃক
# জাহাজ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা দেয়- আমদানিকারক
৯. জাহাজি রিপোর্ট (Ships Report):
# কোন বন্দরে জাহাজ ভিড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজের অধ্যক্ষ বন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট যে বিবরণী পেশ করে তাকে বলা হয়- জাহাজি রিপোর্ট
# জাহাজি রিপোর্ট পেশ করে- জাহাজ অধ্যক্ষ
# জাহাজি রিপোর্ট প্রদান করতে হয়- জাহাজ বন্দরে পৌছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
১০. আগমন পত্র (Bill of Entry):
# আগমন পত্র প্রস্তুত করে- আমদানিকারক
# আগমন পত্র প্রদান করতে হয়- শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট
১১. কড়তা (Tare):
# পণ্যের মোড়কের ওজনকে কড়তা বলে
# মোড়কসহ পণ্যের ওজনকে বলা হয়- Gross Weight
# মোড়কহীন পণ্যের ওজনকে বলা হয়- Net Weight

বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত মূল্য জ্ঞাপন পদ্ধতি :
# মূল অর্থের ৫% ছাড় দেওয়া হবে, যদি ১০ দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করা হয়। এবং ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
# ক্রেতা/আমদানিকারককে বিক্রেতার গুদাম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে এবং যাবতীয় পরিবহন খরচও আমদানিকারককেই বহন করতে হবে।
# পণ্যের মূল্যসহ আমদানিকারক পর্যন্ত পৌছানোর সকল ব্যয়ভার রপ্তানিকারকের।
# বিক্রেতা/রপ্তানিকারক পণ্যের সকল প্রকার খরচ ও ভাড়া বহন করবে।
# বিক্রেতা/রপ্তানিকারক যাবতীয় খরচ, বীমা, ভাড়া, কমিশন ও সুদ বহন করবে।
# ফরমায়েশ দেওয়ার সাথে সাথে ক্রেতা/আমদানিকারককে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
# পণ্য সরবরাহ গ্রহণ কালে মূল্য প্রদান করতে হবে।
# রেলওয়ে ওয়াগনের মাল বোঝাই পর্যন্ত সমস্ত খরচ বিক্রেতা/রপ্তানিকারক বহন করবে।
# পণ্য জাহাজে ওঠানো পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বিক্রেতা বহন করবে এবং পণ্যের মূল্যের সাথে যাবতীয় খরচ যোগ করা হবে।
# FOB Destination- আমদানিকারকের নিকট পর্যন্ত পৌছানোর ব্যয় রপ্তানিকারকের
# FOB Shipping Point- শুধু জাহাজে পণ্য বোঝাই পর্যন্ত পৌছানো ব্যয় রপ্তানিকারকের
B/R- Bill Receivable
B/L- Bill of Lading
BICA- Bangladesh Institute of Chartered Accountants
BSCIC- Bangladesh Small & Cottage Industries Corporation
BASIC- Bank of Small Industries & Commerce
CEO- Chief Executive Officer
D.D- Demand Draft
DL.O- Dead Letter Office
EPZ- Export Processing Zone
FOT- Free of Tax
FIFO- First In First Out
IDBB- Industrial Development Bank of Bangladesh
O/D- Over Draft
O/d- Over Demand
PSI- Pre-Shipment Inspection
RMS- Registered Mail Service
TMO- Telegraphic Money Order
বাণিজ্যে তথ্য:
(অর্থসংস্থানকারী বিল): যে বিশেষ বিলের সাহায্যে একে অপরের উপর বিল ইস্যু করে এবং বাট্টা করে অর্থের সংস্থান করে তাকে অর্থসংস্থানকারী বিল বলে।
(দৈব ঘটনা): এর দ্বারা মানুষের ক্ষমতা বহির্ভূত কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনাকে বোঝানো হয়। এটি বৈদেশিক বাণিজ্য ও নৌ-বীমায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত।
Auction (নিলাম): প্রকাশ্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রয় প্রক্রিয়াকে নিলাম বলে।
Bear (মন্দা কারবারি): ভবিষ্যত পণ্যের মূল্য কমে যেতে পারে অনুমান কের যে ব্যবসায়ী বর্তমান বাজার দরে পণ্য বিক্রি করে তাকে মন্দাকারবারি বলে।
Bonded Goods (শুল্কাধীন পণ্য): শুল্ক আদায় না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক কর্তৃপক্ষের গুদামে রক্ষিত পণ্যকে শুল্ক পণ্য বলে।
Caveat Emporter (ক্রেতা সাবধান): ক্রয় করা পণ্যের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব ক্রেতার।
Caveat Vendor (বিক্রেতা সাবধান): এটা দ্বারা বিক্রেতার দায়িত্বে বিক্রি করাকে বোঝায়।
Embargo (নিষেধাজ্ঞা): কোনো বৈদেশিক পণ্য আমদানি বা বিমান ও জাহাজ চলাচলের উপর জারিকৃত সরকারি নিষেধাজ্ঞা।
Earnest Money (বায়না অর্থ): প্রতিশ্রুতি/চুক্তি পালনে বাধ্য করার জন্য যে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করা হয় তাকে Earnest maoney বলে।
Haggling (দর কষাকষি):পণ্যের ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ক্রয় ও বিক্রেতার ক্রয়-বিক্রয় বিষয়ে প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব।
Jobber (শেয়ার দালাল): লন্ডন শেয়ার বাজারে যারা নগদ অর্থে কারবার করে তাদেরকে Jobber বলে।
Trade Mark (ব্যবসায় প্রতীক): উৎপাদনকারী তার পণ্যের পরিচয় জ্ঞাপক যে চিহ্ন, ছাপ, নিবন্ধিত নাম ইত্যাদি পণ্যের জন্যে ব্যবহার করে তাকে Trade Mark বলে।
Jetsam (নিক্ষিপ্ত পণ্য): বিপদকালে জাহাজ হালকা করার জন্য যে পণ্য সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয় তাকে Jetsam বলে।
Jetision (পণ্য নিক্ষেপ): বিপদকালে জাহাজ হালকা করার জন্য সমুদ্রে পণ্য নিক্ষেপ করাকে Jetision বলে।
Dumping (কমদামে বিক্রয়): কমদামে পণ্য বিক্রয় করে বিদেশি বাজার দখলের কৌশলকে Dumping বলে।
Tarrif (ধার্যকৃত শুল্ক তালিকা): কযে তালিকায় আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রীর উপর ধার্যকৃত শুল্ক প্রদর্শন হয় তাকে Tarrif বলে।
অন্যান্য তথ্য:
3 বৈদেশিক বাণিজ্যে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে মধ্যস্থকারী ব্যবসায়কে বলা হয়- Indent Business
# একটি নির্দিষ্টি সময়ের মধ্যে জাহাজ হতে পণ্য খালাস না করলে প্রদান করতে হয়- Damarrage(খেসারত)
# Ship Delivery Order and Gate Pass প্রয়োজন হয়- পণ্য খালাসের জন্য
# পুনঃরপ্তানির বন্দরকে বলা হয়- Entrepot
# পণ্য রপ্তানির সময়সীমাকে বলা হয়- Cut off time
# পণ্য সরবরাহের সময়কে বলা হয়- Lead time
# আমদানিকৃত পণ্য বন্দর হতে খালাসে নিয়োজিত প্রতিনিধিকে বলা হয়- Clearing Agent
# রপ্তানি কাজে নিয়োজিত প্রতিনিধিকে বলা হয়- Forwarding Agent
# দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত, বিক্রিত তথা ব্যবহারকৃত দ্রব্যের উপর সরকার কর্তৃক আরোপিত করকে বলা হয়- আবগারি শুল্ক
# আমদানি বা রপ্তানিকৃত দ্রব্যের উপর সরকার কর্তৃক আরোপিত করকে বলা হয়- Customs Duty
# রপ্তানিকারক রপ্তানিকৃত দ্রব্যের উপর যে কর প্রদান করে তাকে বলে- Export Duty
# বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি কাজে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো EPB (Export Promotion Bureau), TCB (Trading Corporation of Bangladesh)
# বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয়।
# বাণিজ্য নীতি ২ ভাগে বিভক্ত। যথা : আমদানি নীতি ও রপ্তানি নীতি।
# Users Forum হলো- বন্দর ব্যবহারীদের সমন্বিত সংস্থা
# জাহাজ ভাড়া নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান হলো- Freight For Warding Association
# শুল্ক বন্দরে মালামাল উঠানো ও নামানোর জন্য অনুমোদিত স্থানকে বলা হয়- জেটি
# কন্টেইনার জাহাজে উঠানো এবং নামানোকে বলা হয়- Handling
# এক বন্দর হতে অন্য বন্দরে জাহাজযোগে পরিবাহিত পণ্যকে বলা হয়- উপকূলীয় পণ্য (Coastal Goods)

E-TIN : নিজেই E-TIN করুন, Taxpayer Identification Number (TIN)

আয়কর সংক্রান্ত কতিপয় জ্ঞ্যাতব্য বিষয়


১. ঘোষিত আয়ের ভিত্তিতে কর পরিশোধ করা প্রত্যেক করদাতার নাগরিক দায়িত্ব।
২. প্রদর্শিত আয়ের স্বপক্ষে হিসাবের খাতাপত্র এবং তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
৪. জরিমানা পরিহারের জন্য বিধিবদ্ধ সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রমাণসহ আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাঞ্ছনীয়।
৫. সম্ভাব্য সরল সুদ পরিহারকল্পে যথাসময়ে অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধ করা আবশ্যক।
৬.উৎসে কর কর্তনকারী সকল কর্তৃপক্ষের জন্য কর্তনকৃত/ সংগৃহিত কর বিধিসম্মত সময়সীমার মধ্যে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান পূর্বক কর বিভাগে তথ্য প্রেরণ করা আবশ্যক।
৭. আয়ের কোনো উৎস হতে আয়কর কর্তন করা হলে তার তথ্যাবলী সংগ্রহ করে রাখা আবশ্যক।
৮. কর নির্ধারণী আদেশের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আদেশ প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের এবং আপীল আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে হবে।
৯. কর অফিসের নোটিশ বা পত্র পেলে অবহেলা না করে তার জবাব প্রদান করা বাঞ্ছনীয়।

যে কোন কাজ করতে গেলেই এখন টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই এখন E-TIN (টিন) সার্টিফিকেট লাগে। এখন সেটা করতে পারেন আনার ঘরে বসেই। দরকার হবে না কোন অতিরিক্ত টাকার। টিন সার্টিফিকেট তৈরী করা খুব সহজ,যা অনেকেই কঠিন মনে করেন। একটু চেস্টা করলেই বাচবে আপনার সময় এবং টাকা ।
কিভাবে অনলাইন এ টিন সার্টিফিকেট তৈরী করবেন:
১. প্রথমে আমরা www.incometax.gov.bd এই web page টি open করবো।
২. রেজিস্টার এ click করুন।
৩. একটি user id দিন,তারপর পরপর ২ বার পাসওয়ার্ড দিন।
৪. একটি Secret Question পছন্দ করে সেটির উত্তর দিন।
৫. Country সেলেক্ট করুন।
৬. আপনার মোবাইল নাম্বার দিন
৭. ই-মেইল এড্রেস দিন
৮. ভেরিফিকেশন কোড দিন
৯. রেজিস্টার এ ক্লিক করুন।
এবার আপনি আপনার মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাবেন। এই কোডটি দিন। Activate এ ক্লিক করুন।

১০. For TIN Registration/Re-registration Click here এ ক্লিক করুন।
* করদাতার ধরণ :যদি আপনি বাংলাদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন তবে Bangladeshi Resident এ ক্লিক করুন,অন্যথায় আপনার পছন্দমত Option এ ক্লিক করুন।
* ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকলে Individual>Bangladeshi>Major(with NID)তে ক্লিক করুন।
* রেজিস্ট্রেশন এর ধরণ এ New Registration এ ক্লিক করুন।
* আয়ের উৎস দেখিয়ে দিন।আপনি যদি চাকুরী করে থাকেন তবে Service,আর যদি ব্যবসা করে থাকেন তবে Business এ ক্লিক করুন।
* Location of main source of income এ আপনার কর্মস্থল এর Location দেখিয়ে দিন।
* Type of Employer/Service Location এ আপনার কাজের ধরণ দেখিয়ে দিন।নিচে আরো একটি ঘর আসবে সেখানে আপনার কর্মস্থলের ঠিকানা দিন।(যদি ঠিকানা চায় তবে দিবেন।)
* Next এ ক্লিক করুন।
১.  Taxpayer’s Name/ করদাতার নাম
২. Gender / লিঙ্গ
৩. Taxpayer’s National ID Number / জাতীয় পরিচিতি নম্বর
৪. Date of Birth (DoB) / জন্ম তারিখ:
৫. Father’s Name / পিতার নাম:
৬. Mother’s Name / মাতার নাম:
৭. Name of Spouse / স্বামী বা স্ত্রীর নাম:
৮. Mobile Number/ মোবাইল নম্বর:
৯. Facsimile / ফ্যাক্স :
১০. Email / ইমেইল:
১১. Current Address (For Indivisual “Present Residential Address”):
১২. Permanent Address:
১৩. Other Address (Working / Bussiness Address):
Go Next এ ক্লিক করুন। এবার আপনি রেজিস্ট্রেশনের Preview দেখতে পাবেন।কোন ভুল থাকলে ঠিক করে নিন।
এবার Submit এ ক্লিক করুন। হয়ে গেল আপনার e-tin.

ব্যবসার প্রম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence)

ব্যবসার প্রম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence)
ব্যবসায়ীর প্রথম ধাপ হলো ট্রেড লাইসেন্স, তাই কিভাবে এটি করতে হয় এবং ট্রেড লাইসেন্স কি? এ সম্পর্কে জেনে নিন কিছু তথ্য। ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন (A license is required and why)। সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের সুচনা ঘটে। এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। ব্যবসার প্রম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence), আমাদের দেশে এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী আছেন যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন কিন্তু এটা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধি।
Trade মানে হচ্ছে ব্যবসা আর Licence মানে হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। এই ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ (City Corporation Taxation Rules, 1983) এর অধিনে ইস্যু করে থাকে । যেহেতু এই ট্রেড লাইসেন্স সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয় তাই আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতিক হচ্ছে এই ট্রেড লাইসেন্স ।
কোন জায়গা/প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়: (Places / institutions to trade licenses) সিটি করর্পোরেশন,পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে ।
কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয় (How to Trade License): নির্ধারিত আবেদন ফর্মে ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয় । উদ্যোক্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আবেদন ফরম এর সাথে উদ্যোক্তাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয় । ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর আবেদন এর সাথে কি কি কাগজ পত্র জমা দিতে হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবেন । নিম্নে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার জন্য কি কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে তার একটি তালিকা দেয়া হলো:
সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে (general business license): দোকান ভাড়ার চুক্তি পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্সপরিশোদের এর ফটোকপি। আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ১৫০/৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে। ফ্যাক্টরির/কারখানা ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে (Factory / factories in the case of a trade license)
পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি: প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ। প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা। ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র: ঢাকা সিটিকর্পোরেশন এর নিয়ম – কানুন মেনে চলার অঙ্গিকারনামা ১৫০/৩০০ টাকারজুডিশিয়ার স্ট্যাম্প এ স্বাক্ষরিত। সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে (CNG station / combustible materials business) বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র: ক্লিনিক/প্রাইভেটহাসপাতালএর ক্ষেত্রে (Clinic / private hospitals in the case of) ডিরেক্টর জেনারেল – স্বাস্থ্য , কর্তৃক অনুমতিপত্র।
লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে (In case of limited company) কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল। সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন । প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল এর ক্ষেত্রে (Printing Press and residential hotel): ডেপুটি কমিশনার, কর্তৃক অনুমতিপত্র। রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে (In recruiting agencies) মানবসম্পদ রপ্তানী বুর‍্যো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স: অস্ত্র ও গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রে (In the case of weapons and ammunition): অস্ত্রের লাইসেন্স । ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে (Medicines and drugs case); ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি। ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে (Travel agencies in the) সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।
ট্রেড লাইসেন্স করতে কতো টাকা (ফি) লাগে (How do you trade money (fees) takes): স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর – ১ শাখা হতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয় । ব্যবসার ধরন এর উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয়েথাকে । স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য জানা যাবে। কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন (Who can trade in): নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে তবে অবশ্যই তাকে কোন না কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে । বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে।
একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যায় (A license key can be used for multiple business): না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য অর্থাৎ যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয় শুধু মাত্র সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্য কোন ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না ।নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে ।
একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যাক্তি ব্যবহার করতে পারবেন (A license allows you to use more than one person): না একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে পারবেন অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি শুধু মাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য । এটা কোনভাবেই হস্তান্তর যোগ্য নয় ।
ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে এবং কোথা থেকে নবায়ন করতে হয় (How and Where to renew license): যে অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স সাধারনত ১ বছর এর জন্য ইস্যু করা হয়। প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। পুরানো ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।